ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসা করার সেরা ১৫ টি ইউনিক আইডিয়া

সম্মানিত দর্শন বন্ধুরা, আসাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন। বর্তমানে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো অনলাইন ব্যবসাও শুরু করতে পারেন। 

অনলাইন ব্যবস্যা কি?

অনলাইন বা ইন্টারনেট কে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করাকে অনলাইন ব্যবস্যা বলে। আপনি যদি অফলাইনে কোনো ব্যবস্যা শুরু করতে চান তাহলে অবস্যই আপনাকে মোটামুটি ইনভেস্ট করতে হবে। কিন্তু অনলাইন ব্যবসায় অফলাইন ব্যবসা থেকে তুলনামূলক কম ইনভেস্ট করতে হয়। যার ফলে মানুষ দিন দিন অনলাইন ব্যবসার দিকে আগ্রহ প্রকাশ করছে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে যেমন নানা ধরনের কাজ রয়েছে, তেমনি অনলাইনে আপনি নানা ধরনের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। ত আজকের আর্টিকেলে সেরা ১৫ টি ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করা হবে যা আপনি অল্প ইনভেস্ট করার মাধ্যমে শুরু করতে পারবেন।

অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া

সেরা ১৫ টি অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া

১ঃ App Business : এটি আমার সবচেয়ে প্রিয় অনলাইন ব্যবসা। এই ব্যবসা টি করার মাধ্যমে আমার মাসে ৫০ - ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম হয়। 

যেভাবে আপনি App Business শুরু করবেন:-

প্রথমে আপনি বিভিন্ন সোসাল মিডিয়া থেকে ধারণা নিন বর্তমানে কোন অ্যাপগুলো বেশি ব্যবহার হচ্ছে। যেমন : বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে vpn অ্যাপ গুলো। তো প্রথমে আপনি মার্কেটপ্লেস থেকে app developer হায়ার করুন। অথবা আপনি অনলাইন থেকে vpn অ্যাপের সোর্স কোড ক্রয় করে নিজে অ্যাপ তৈরি করুন। সবচেয়ে ভালো হবে ভালো  একজন ডেভলপার হায়ার করে একটি vpn অ্যাপ তৈরি করুন। একটি vpn অ্যাপ তৈরি করতে আপনার খরচ হতে পারে ১০- ১৫ হাজার টাকার মতো। 

তারপর একটি এডমুব একাওন্ট তৈরি করে নিন এবং সেই vpn অ্যাপের ভিতর আপনার এডমুন এড কোড বসান৷ তারপর সেই অ্যাপটি গুগল প্লেস্টোরে আপলোড করুন। 

অ্যাপ প্লেস্টোরে আপলোড করা হয়ে গেলে সেই অ্যাপটি মার্কেটিং করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিন। 

• google adword

• facebook add

• youtube paid promotion

অ্যাপটি সঠিক ভাবে মার্কেটিং করার জন্য উপরোক্ত মাধ্যমগুলো ব্যবহার করতে পারেন। ত অ্যাপটি যদি মার্কেটিং করে ১০-২০ হাজার ইনস্টল আনতে পারেন এবং প্রতিদিন যদি অ্যাপে ৫-৬ হাজার একটিভ user হয় তাহলে প্রতিদিন এডমুব থেকে ১০ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম হবে। তবে অবস্যই চেস্টা করবেন অ্যাপটি মার্কেটিং করার সময় বাহিরের দেশের অডিয়েন্স টার্গেট করার জন্য। আবার vpn অ্যাপ থেকে user রা paid server ক্রয় করলে আপনার আরো ইনকাম হবে।

ত এভাবে আপনারা অ্যাপ বিজনেস করে অল্প ইনভেস্ট করার মাধ্যমে ভালো আয় করতে পারবেন। আপনি vpn ছাড়া আরো অন্য ক্যাটাগরির অ্যাপ নিয়েও কাজ করতে পারেন। ত এই ব্যাবসাটি প্রথম অবস্থায় আপনার কঠিন মনে হলেও আস্তে আস্তে যখন অভিজ্ঞতা লাখ করবেন তখন এই ব্যবসার প্রতিই আপনার সবচেয়ে আগ্রহ থাকবে।

২ঃ টি শার্ট বিক্রি: প্রথমে আপনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু ইউটিউব চ্যানেল বাঁছাই করুন এবং সেই চ্যানেলের লঘু নিয়ে ট্রি শার্ট ডিজাইন করুন এবং সে সকল চ্যানেলের মালিকের সাথে যোগাযোগ করে তাদের মাধ্যমে টি শার্ট গুলো প্রমোশম করান৷ এতে করে সেই সকল চ্যানেলের দর্ষকেরা টি শার্ট ক্রয় করতে পারে। তবে এই ব্যবসাটি আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে আপনি বিভিন্ন সেলিব্রেটি ফেমাস ডায়লগ গুলো নিয়ে টি শার্ট তৈরি করুন। এতে করে আপনার বেশি বিক্রি হবে।

উদাহরণঃ বর্তমানে পুষ্পা মুভির একটি ফেমস ডাইলগ হলো: ( মে ঝুকেগা নেহি) । এই ডাইলগটি এবং পুষ্পার একটি লঘু লাগিয়ে ট্রি শার্ট তৈরি করলে অবস্যই সেটি বিপুল পরিমাণ বিক্রি হবে। আর এই সম্পূর্ণ ব্যবসাটি পরিচনা করতে পারেন একটি ই কমার্স সাইটের মাধ্যমে। 

৩ঃ ডোমেইন ফ্লিপিং: কোনো পরিশ্রম ছাড়া সল্প ইনভেস্টের সেরা একটি ব্যবসা হচ্ছে ডোমেইন ফ্লিপিং।

ডোমেইন ফ্লিপিং কি?

সংক্ষেপে বলতে গেলে : ডোমেইন ফ্লিপিং হচ্ছে আপনি ডোমেইন নেম ক্রয় করে সেটি বিভিন্ন কম্পানির কাছে বিক্রি করাকেই বুঝায়। 

উদাহরণ: একটি (com) ডোমেইন ক্রয় করতে খরচ হয় ৭০০-৮০০ টাকা। আর সেটি আপনি লাখ টাকাও বিক্রি করতে পারবেন।

যেভাবে ডোমেইন ফ্লিপিং ব্যবসা শুরু করবেন?

প্রথমে আপনি চিন্তা ভাবনা করে ২০-৩০ টি ডোমেইন নেম বাছায় করবেন। তারপর দেখবেন সেই ডোমেইন টি available আছে কিনা। ধরি আপনি নেমচিপ বা অন্য কোনো ডোমেইন প্রভাইডার সাইট থেকে ২০-৩০ টি ডোমেইন ক্রয় করলেন। তারপর সেই ডোমেইন গুলো flippa বা অন্যন্য ডোমেইন বিক্রির সাইটে বিক্রির জন্য পোস্ট করে রাখবেন। পরবর্তী সময়ে কোনো কম্পানির বা কারো আপনার ডোমেইন নেমটি পছন্দ হলে তারা চড়া দামে আপনার কাছ থেকে ডোমেইন টি ক্রয় করবে। এতে করে আপনার ভালো ইনকাম হবে।

তবো এই ব্যবসাটি করার জন্য আপনার বেশ কিছু ধারণা থাকতে হবে। যেমন:

• ডোমেইন নাম ক্রয় করার পূর্ব সেই নামটি সম্পর্কে ভালোভাবে রিসার্চ করে নেওয়া।

• কম অক্ষের ডোমেইন বাঁছায় করা।

• সুন্দর এবং আকর্ষণীয় নাম বাঁছায় করা।

৪ঃ ডোমেইন - হোস্টিং ব্যবসা: অনলাইন একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিং প্রয়োজন। ত আপনি স্বল্প পূজিতে ডোমেইন এবং হোস্টিং ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসাতে অনেক লাভ রয়েছে। তবে প্রথমে কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে হবে আপনার ব্রান্ডকে প্রমোট করার জন্য।

৫ঃ ড্রপ শিপিং : এই ব্যবসাটি করার জন্য আপনার নিজস্ব কোনো প্রোডাক্টের দরকার নেই। আপনার শুধু প্রয়োজন একটি ই কমার্স সাইট। আপনি শুধু  আপনার সাইট থেকে অন্য কম্পানির পন্য অর্ডার করে দিবেন। একে বলে ড্রপ শিপিং ব্যবসা। এই ব্যবসাটি করার মাধ্যমে আপনি মাসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

video:

উপরোক্ত ভিডিওটি দেখার মাধ্যমে ড্রপ শিপিং ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

৬ঃ কোর্স বিক্রি: আপনার যেই কাজে দক্ষতা রয়েছে সেই কাজটি নিয়ে পেইড কোর্স তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন। কাজটি হতে পারে ফ্রিল্যান্সিং, বইয়ের পড়া, ইত্যাদি।

৭ঃ হস্তশিল্প : প্রাচীন কাল থেকেই আমাদের দেশে মাটি বা বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন কারুকাজ হয়ে আসছে। আর এইসব কারুকাজের জিনিষ গুলোর অনেক চাহিদা রয়েছে। অনেক সৌখিন মানুষ এগুলো ঘরের সৌন্দর্যের কাজে ব্যবহার করে। ত আপনি এসব কারুকাজের জিনিস নিজে তৈরি করে বা অন্যদের দিয়ে তৈরি করে তা অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।

৮ঃ ঘরের তৈরি খাবার: এই ব্যবসাটি মহিলাদের জন্য সেরা হবে। ত আপনি বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার গুলো তৈরি করে তা অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।

৯ঃ Template Sell : আপনি মার্কেটপ্লেস থেকে অরিজিনাল সোর্স কোড বা থিম কিনে সেগুলো রিসেল করতে পারেন। এই ব্যবসাটি আমি নিজেও করি। কারন এই ব্যবসাতে অনেক লাভ হয়।  

আমি কিছুদিন আগে মার্কেটপ্লেস থেকে একটি গেমের সোর্স কোড ক্রয় করি ৪০ ডলার দিয়ে এবং সেই কোডটি রিসেল করে আমার ইনকাম হয় প্রায় ১৩ হাজার টাকার মতো। ত আপনিও চাইলে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

১০ঃ online store : আপনি একটি অনলাইন স্টোর তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের পন্য বিক্রি করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

১১ঃ ভিডিও এডিটিং: আপনার যদি ভিডিও এডিটিং য়ে দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি মার্কেটপ্লেসে আপনার সার্ভিসটি প্রদান করতে পারেন। এছাড়া অন্য সে কাজেই দক্ষতা রয়েছে সেই  সার্ভিসটি প্রদান করতে পারেন। আবার ভিডিও প্রফেশনালভাবে এডিটিং করতে অনেক গ্রাফিক সহ নানা জিনিষের প্রয়োজন হয়। আপনি চাইলে সেগুলো নিজে তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন।

১২ঃ affiliate marketing: প্রথমে আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন। তারপর সেই সাইটে বিভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ আর্টিকেল তৈরি করুন এবং প্রোডাক্টের এফিলিয়েট লিংক সেয়ার করেন।  এতে করে ভিজিটরা আর্টিকেল টি পড়ে প্রোডাক্ট টি ক্রয় করলে আপনার ইনকাম হবে।

১৩ঃ Language Translator : আপনার যদি কোনো ভাষায় অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে সেটি প্রদান করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

• English to Bangla 

• Spanish to English 

অনলাইনে অনেক কম্পানি রয়েছে যাদের ভাষা ট্রান্সলেটরের প্রয়োজন হয়ে থাকে। ত আপনি সে সকল কম্পানিতে কাজ করতে পারেন।

১৪ঃ কেনা বেচা : আপনি (bikroybd) এর মতো একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। তারপর সেখানে বিভিন্ন ধরনের পন্য কেনা বেচা করার মাধ্যমে লাভবান হতে পারেন।

১৫ঃ পেমেন্ট সার্ভিস: এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের ডুয়েল কারেন্সি কার্ড না থাকার কারনে ইউটিউব ভিডিও বুস্ট, ফেসবুক পেজ বুস্ট বা মার্কেটপ্লেস থেকে কোনো কিছু কেনা ইত্যাদি কাজ করতে পারছেনা। ত আপনি তাদের পেমেন্ট সার্বিক দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এতে করে প্রতি ডলার আপনার কার্ডটিতে লোড করতে খরচ হবে ৮৩ - ৮৪ টাকা। আর আপনি তাদের কাছ থেকে প্রতি ডলারে রাখবেন ১০০ টাকা। 

ত এই সার্বিক টি দেওয়ার মাধ্যমে অনেকেই মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছে। 

ত বন্ধুরা এই ছিল সেরা ২০ টি অনলাইন বিজনেস আইডিয়া সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা । ত এরকম ভিন্ন আইডিয়া সম্পর্কে জানতে আমাদের সাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। ধন্যবাদ সকলকে মনযোগ সহকারে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য।

Post a Comment

0 Comments