এডসেন্স ছাড়া ইউটিউব থেকে আয়ের ভিন্ন ৫টি উপায়। এডসেন্স ছাড়া ইউটিউব থেকে আয় করুন

হেলো বন্ধুরা, সকলেই কেমন আছেন? আসাকরি সকলেই অনেক ভালো আছেন। অনেকের মনের মধ্যে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, আমি ত copyright content  বা যে কন্টেন্ট গুলো adsence support করেনা যেমন: slide show ভিডিও, racing bar, লিরিক্স ইত্যাদি নিয়ে কাজ করি। তাহলে কি এডসেন্স ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবো? হ্যা আপনি পারবেন। কারণ এডসেন্স ছাড়া ইউটিউব থেকে আরো অন্য উপায়ে টাকা আয় করা যায়। 

তবে ৯৫% ইউটিউবারা ইউটিউব থেকে আয় করে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে। আর বাকি ৫% ইউটিউবার, যারা এডসেন্স পলিসির বাহিরের কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করে তারা শুধু এডসেন্স বিকল্প মাধ্যম গুলো ব্যবহার করে ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করে।

ইউটিউবে এমন কিছু ক্যাটাগরি রয়েছে, যে সব ক্যাটাগরির ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করলে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিও হয়। আপনি একটি বিষয় লক্ষ্য করে দেখবেন, গানের লিরিক্স ভিডিও বা racing bar ক্যাটাগরির ভিডিওগুলোতে ভিও হয় মিলিয়নে উপর এবং সেই ক্যাটাগরির চ্যানেলগুলোতে লাখ লাখ সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। কিন্তু সেই কয়াটাগরির ভিডিওগুলো মনিটাইজেশন পায় না। ত এই ধরনের ক্যাটাগরি বা টপিক নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের জন্য আজকের আর্টিকেল টি অনেক উপকারে আসবে।

এডসেন্স ছাড়া ইউটিউব থেকে আয়ের ভিন্ন ৫ টি উপায়

এডসেন্স ছাড়া ইউটিউব থেকে আয়ের ৫ টি উপায়

এডসেন্স ছাড়া আয় করতে গেলে আপনাদের চ্যানেলের ট্রাফিব বা অডিয়েন্স গুলোকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। আর বর্তমান সময়ে ট্রাফিক বা অডিসেন্স কে সোনার ডিম পাড়া হাঁসের সাথে তুলনা করা হয়। কারণ এইসব অডিয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে আপনি বিভিন্ন ভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। যেমন:-

1: Affiliate Marketing : অনলাইন থেকে টাকা আয়ের বড় একটি সেক্টর হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। আর এফিলিয়েট থেকে আয় করার জন্য প্রয়োজন সঠিক ট্রাফিক। ত আপনার যে ক্যাটাগরির চ্যানেল রয়েছে সে ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারেন।

উদাহরণঃ মনে করি, আপনার লিরিক্স চ্যানেল রয়েছে এবং সে চ্যানেলের ভিডিওগুলোতে মোটামুটি ভিও হয়। তাহলে আপনি amazon বা অন্য এফিলিয়েট সাইট থেকে লিরিক্স ভিডিও এডিট করার পেইড সফটওয়্যারের এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন।

প্রথমে আপনি সে সকল সফটওয়্যারের এফিলিয়েট লিংক তৈরি করে আপনার ইউটিউব ভিডিও description বক্সে আপলোড করবেন এবং সে সফটওয়্যারের একটু ব্যাখ্যা দেবেন। এতে করে যাদের সফটওয়্যারটি ভালো লাগবে তারা অবস্যই ক্রয় করবে।

গানের লিরিক্স বা এই ক্যাটাগরির ভিডিওগুলোতে বাহিরের দেশের অডিয়েন্স গুলো বেশি হয়। আমরা যেমন পিসির কোনো সফটওয়্যার ফ্রি বা ক্রাক ভার্সন ব্যবহার করলেও বাহিরের দেশের মানুষেরা সবসময় অরিজিন এবং পেইড ভার্সন ব্যবহার করে। যার ফলে অবস্যই আপনি সেল পাবেন এবং আপনার ভালো ইনকাম হবে। ইউটিউব থেকে এডসেন্স ছাড়া অর্থ উপার্জন করার এটিই সবচেয়ে সেরা মাধ্যম

 2: Traffic Transfer : আপনার হাতে রয়েছে ট্রাফিক। আর এই ট্রাফিকে আপনি বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারেন।

প্রথমে আপনি যেকোনো প্লাটফর্মে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। তারপর সেই সাইটে কিছু পোস্ট পাবলিশ করে এডসেন্স এপরোভ করে নিবেন। 

যারা ব্লগিং করে তারা যানে,  প্রথম অবস্থায় ওয়েবসাইটে বেশি ভিজিটর আসে না। যার ফলে ইনকাম ও কম হয়। তাই আপনি আপনার ভিডিও রিলেটেড আর্টিকেল পাবলিশ করবেন। তারপর সেই আর্টিকেলের লিংক আপনার ভিডিওর description বক্সে আপলোড করবেন। তারপর ইউটিউব থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর আসবে সেই আর্টিকেল টি পড়ার জন্য।

বর্তমানে ফেসবুক বা অন্য সোসাল মিডিওয়া থেকে নতুন ওয়েবসাইটে বেশি ভিজির আসলে সেগুলো অর্গানিক হয় না। যার ফলে নতুন এডসেন্স গুলোতে এডলিমিট সহ নানা সমস্যা হয়। ইউটিউব হচ্ছে গুগলের ই একটি প্লাটফর্ম। যার ফলে ইউটিউব থেকে আপনার সাইটে ভিডিটর আসলে আপনার সাইটের কোনো সমস্যা হবে না এবং সেগুলো হবে অর্গানিক ট্রাফিক। আবার ভালো সিপিস পাওয়ার পাশাপাশি আপনার ইনকাম ও অনেক বেশি হবে।

3: Product Sell : আমাদের দেশের অনেক তরুন - তরুণীরা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ব্যবসা করে আসছে। তো এই ব্যবসাটি আপনি ইউটিউবের মাধ্যমেও পরিচালনা করতে পারবেন। 

উদাহরণ: ধরুন, আপনি একটি কম্পানি থেকে ২  হাজারের মতো ফেসক্রিম প্রোডাক্ট ক্রয় করেছেন। প্রতিটি প্রোডাক্টের মূল্য হচ্ছে ২০০ টাকা এবং আপনি বিক্রি করবেন ৩০০ টাকা করে। এতে করে আপনার প্রতিটি বিক্রিতে ১০০ টাকা লাভ হবে।

ত এখন আপনি প্রোডাক্টি বিক্রির জন্য ফেসবুক পেজে পোস্ট করার পাশাপাশি প্রোডাক্টির ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। তবে অবস্যই আপনার ভিডিওটি হতে হবে কোয়ালিটি ফুল এবং সঠিক তথ্যে ভরপুর । এতে করে ভিডিওটি দেখার পর যাদের প্রোডাক্ট ভালো লাগবে তারা অবস্যই আপনার সাথে যোগাযোগ করে প্রোডাক্ট টি ক্রয় করবে। 

 এই নিয়মে অনেকই ইউটিউবকে কাজে লাগিয়ে তাদের প্রডাক্ট বিক্রি করার মাধ্যমে ভালো অর্থ উপার্জন করে। ত আপনি ও এভাবে কাজ করতে পারেন। পুরুষদের থেকে মহিলারা এই ব্যবসাটি ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবে।

4: Traffic Sell / paid promotion  : আপনার চ্যানেলে যখন মোটামুটি ভালো সাবস্ক্রাইব হবে তখন আপনার চ্যানেল ক্যাটাগরির বিভিন্ন কম্পানির কাছ থেকে স্পন্সর পাবেন। আবার অনেক ইউটিউবরা ও আপনার সাথে যোগাযোগ করবে তাদরে চ্যানেল প্রমোট করে দেওয়ার জন্য। এভাবে আপনি মোটামুটি ইনকাম করতে পারবেন।

5: Grow You own business : আপনার যদি কোনো ই-কমার্স ওয়েবসাইট থাকে তাহলে সেটিকে আপনার চ্যানেলের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। এতে করে আপনার বিক্রি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আপনি বিভিন্ন বড় বড় চ্যানেল লঘু বা জনপ্রিয় সেলিব্রিটির ভাইরাল ডাইলগ ইত্যাদি নিয়ে ট্রি শার্ট তৈরি করতে পারেন। তারপর সেগুলো নিয়ে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করলে ভিডিওগুলো ইউটিউবে ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি টি শার্ট গুলো অনেক বিক্রি ও হবে। 

ত বন্ধুরা ইউটিউব থেকে এডসেন্স বিকল্প উপরোক্ত নিয়মগুলো অনুসরণের মাধ্যমে ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তবে ইউটিউবে কাজ করলে অবস্যই এডসেন্স নিয়ে কাজ করবেন। কারণ ইউটিউব থেকে এডসেন্সের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা সম্ভব। তবে ইউটিউব পলিসির বাহিরের ক্যাটাগরি নিয়ে কাজ করলে উপরোক্ত নিয়মগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post