কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর সেরা কিছু আপডেট উপায়। How to fast Computer | আপনার কম্পিউটার ফাস্ট করুন।

কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর সেরা কিছু আপডেট উপায়। How to Your fast Computer, আপনার কম্পিউটার ফাস্ট করুন


হ্যালো বন্ধুরা, সকলে কেমন আছন? আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন। তো আজকের আর্টিকেলে কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর সেরা কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে।তো চলুন শুরু করা যাক।

আমরা যখন মার্কেট থেকে নতুন একটি কম্পিউটার ক্রয় করি, তখন সেটি অনেক ফাস্ট থাকে। তারপর কিছুদিন ব্যবহার করার পরেই সে কম্পিউটারটি অনেক স্লো হয়ে যায়। বিভিন্ন কারণেই কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়। আর কম্পিউটারটি স্লো হয়ে গেলে আগের মত ব্যবহারে আনন্দ পাওয়া যায় না বা কম্পিউটারে কোনো কাজ করতে ও ভালো লাগে না। এক কথায় বলতে গেলে স্লো কম্পিউটার চালানো আমাদের জন্য বি'রক্তিকর। বিভিন্ন কারণে কম্পিউটার স্লো স্লো কাজ করে। তো আজকে কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর সেরা কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে যার মাধ্যমে আপনি আপনার পুরনো এবং স্লো কম্পিউটারটি নতুনের মত ফাস্ট করে তুলতে পারবেন।

কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর সেরা কিছু উপায়

Local Disk : আমরা যখন নতুন কম্পিউটার মার্কেট থেকে ক্রয় করে তখন কম্পিউটারের লোকাল ডিক্স বা C drive একদম খালি থাকে। তারপর আমরা কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের গান, মুভি, সফটওয়্যার, ফাইল ইত্যাদি ইনস্টল করে কম্পিউটার Local Disk একদম ফুল করে ফেলি। যার ফলে কম্পিউটার অনেক স্লো কাজ করে।তাই Local DiskDisk বা C Drive থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাইল বা সফটওয়্যার আনইন্সটল করে দেন। এতে করে কম্পিউটার আগের তুলনায় অনেক ফাস্ট কাজ করবে।

আলাদা ড্রাইভ তৈরি করুন : ইন্টারনেট থেকে কোন সফটওয়্যার বা ফাইল ইন্সটল করলে সেটি সি ড্রাইভে না রেখে অন্য ড্রাইভে রাখুন। এতে করে আপনার কম্পিউটারটি স্লো কাজ করবেনা। সাধারণত বেশিরভাগ কম্পিউটারগুলোর আলাদা ড্রাইভে এ টেরাবাইট স্টোরেজ থাকে।

ভাই'রা'স চেক :অনেক সময় দেখা যায় আপনি ইন্টারনেট থেকে কোন ফাইল বা সফটওয়্যার ইনস্টল করলে সেটিতে ভাই'রা'স থাকে। যার ফলে ও কম্পিউটারটি অনেক স্লো হয়ে যায়। তাই কম্পিউটারে এন্টি'ভা'ই'রাস ব্যবহার করে ভা'ই'রাস চেক করে নিন। যদি কোন ফাইলে ভা'ই'রাস থাকে তাহলে সেই ফাইলটি ডিলিট করে দিন। এতে করে কম্পিউটারটি ভালো পারফর্মেন্স দেবে।

অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার: আমরা অনেক সময়ই কোন কাজের জন্য আমাদের কম্পিউটারে বিভিন্ন সফটওয়্যার ইনস্টল করি। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর সেই সফটওয়ারটি আমাদের কম্পিউটারে রেখে দেই। এতে করে সেই সফটওয়ারটি আমাদের কম্পিউটারের অনেক স্টরেজ দখল করে রাখে।যার ফলে ও কম্পিউটার স্লো কাজ করে।তাই কম্পিউটার থেকে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আনইন্সটল করে দেন।এতে করে কম্পিউটার আগের তুলনায় অনেক ফাস্ট হবে।

Recy'cle B'in: আপনারা হয়তো জানেন যে , আমাদের কম্পিউটার থেকে কোন ফাইল , মুভি, পিকচার ইত্যাদি আনইন্সটল করে দেওয়ার পরও সেটি রিসাই'কেল বিন অপশনে থেকে যায়।মানে ব্যাকআপ হিসেবে রিসা'ইকেল বিন অপশনে থেকে যায়। তো এভাবে অনেক কিছু আনস্টল করার পরও যদি রিসাই'কেল বিন অপশনে থেকে যায় দীর্ঘদিন ধরে তাহলে আপনার কম্পিউটারের অনেক স্টোরেস দখল করে ফেলবে। তাই কোন কিছু আনস্টল করলে সেটি রিসা'ইকেল বিন থেকেও ডিলিট করে দিন।

Disk Cleanup:নিয়মিত আপনার কম্পিউটারের Disk Cleanup করুন/ যেভাবে Disk Cleanup করবেন:

• প্রথমে আপনার কম্পিউটারের সার্চ অপশনে চলে যান।

• তারপর Disk Cleanup লিখে সার্চ করুন এবং সেটি ওপেন করুন।

 • প্রথমে আপনার C Drive এ ক্লিক করে সবকিছু সিলেক্ট করে ওকে করে দিন।এতে করে আপনার  C Drive এ থাকা সকল প্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট হয়ে যাবে।

• তারপর বাকি ড্রাইভ গুলো ও এভাবে পরিষ্কার করুন।

তো দীর্ঘদিন ধরে যদি Disk Cleanup না করা হয় তাহলে অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো আপনার স্টোরেজের অনেক জায়গা দখল করে রাখে।তাই নিয়মিত আপনার কম্পিউটারের Disk Cleanupকরুন।

উইন্ডোজ অটো আপডেট অপশন: আপনি হয়তো জানেন উইন্ডোজ কিছুদিন পরপরই নতুন নতুন আপডেট নিয়ে আসে। আর আমাদের কম্পিউটারের উইন্ডোজ আপডেট অপশন অফ করা না থাকলে সেটি অটোমেটিক আমাদের উইন্ডোজ ইন্সটল হয়ে যায় এবং স্টোরেজ দখল করে। আর কম্পিউটারে স্টোরেজ ফুল থাকলে কম্পিউটার স্লো কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই আপনি আপনার কম্পিউটারের উইন্ডোজ অটো আপডেট অপশন অফ করে রাখুন।

স্টার্টআপ প্রোসেস:আপনি হয়তো একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন যখন আপনার কম্পিউটারটি ওপেন করেন তখন কম্পিউটারের ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক প্রোগ্রাম চালু হয়ে যায়। যার ফলে কম্পিউটারটি অনেক লোড নেয়। তাই স্টার্টআপ প্রসেস অফ করে রাখুন। 

SSD: আপনার কম্পিউটারের যদি একদম স্লো কাজ করে তাহলে আপনার কম্পিউটারে আলাদা করে এসএসডি লাগাতে পারেন।

উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি :

ধরুন, আপনি এক কেজি চালের ভাত খেতে পারেন। কিন্তু আপনার সামনে যদি প্রতিদিন 5 থেকে 10 কেজি চালের ভাত রাখা হয় তাহলে কখনোই তা খেতে পারবেন না। তেমনি আপনার কম্পিউটার পারফরম্যান্স এর তুলনায় যদি ভারী কোনো সফটওয়্যার আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করেন তাহলে আপনার কম্পিউটারটি সেই সফটওয়্যার লোড সামলাতে পারবে না। যার ফলে কম্পিউটারটি স্লো হয়ে যাবে। আপনি যদি আলাদা করে এসএসডি লাগান তাহলে আপনার কম্পিউটারটি অনেক অনেক ফাস্ট হয়ে যাবে। এসএসডি লাগালে পুরোনো কম্পিউটার টি ও অনেক ফাস্ট হয়। এসএসডি লাগালে আপনি আপনার কম্পিউটারে ভারি ভারি সফটওয়্যার যেমন: ফটোশপ, অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও ,এডোবি প্রিমিয়ার প্রো ইত্যাদি সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন. এস এস দি স্টোরেজ অনুযায়ী এসএসডি দাম নির্ধারণ করা হয়।তো আমার রিকমেন্ড থাকবে আপনার কম্পিউটারে যদি একদম স্লো হয়ে যায় তাহলে আপনি একটি এসএসডি লাগান। আমার কম্পিউটারে ও আমি একটি আলাদা ভাবে এসএসডি লাগিয়ে নিয়েছি। এতে করে আমার কম্পিউটারটা আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি ফাস্ট কাজ করছে।

ওয়ালপেপার পরিবর্তন: এই জিনিসটি আপনি খেয়াল করে দেখবেন, আপনার কম্পিউটার এর ডিফল্ট যে ওয়ালপেপার রয়েছে সেটি পরিবর্তন করে যদি ইন্টারনেট থেকে ইনস্টল করে কোন ওয়েলপেপার আপনার কম্পিউটারে লাগান তাহলে আপনার কম্পিউটারটি আগের তুলনায় স্লো কাজ করে। মানে আপনার কম্পিউটার এর ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে মানানসই হয় না। তাই কখনো আপনার কম্পিউটারের ওয়ালপেপার পরিবর্তন করবেন না। ডিফল্ট ভাবে যে ওয়ালপেপারটি রয়েছে সেটি রাখার চেষ্টা করুন।

পারফরমেন্স বুষ্টার:আপনার কম্পিউটার স্লো কাজ করলে আপনি বিরক্ত হয়ে ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ধরনের পারফরম্যান্স বুস্টার সফটওয়্যার ইনস্টল করেন আপনার কম্পিউটারের জাঙ্ক ফাইল বা পারফরম্যান্স ভালো করার জন্য। কিন্তু আপনি জানেন না যে এই পারফরম্যান্স বুস্টার সফটওয়্যার এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে ম্যালওয়্যার। যা আপনার  কম্পিউটার এর জন্য অনেক বিপদজনক। তাই কখনো থার্ড পার্টি কোন সাইট থেকে কোন ধরনের পারফরম্যান্স বুস্টার সফটওয়্যার ইন্সটল করবেন না।

টেম্পোরারি ফাইল:সব সময় আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে টেম্পোরারি ফাইল ডিলিট করুন।যেভাবে টেম্পোরারি ফাইল ডিলেট করবেন:

• প্রথমে আপনার কম্পিউটার স্টার্ট অপশনে ক্লিক করে মাউসের রাইট বাটনে ক্লিক করুন।

• তারপর লেখা পাবেন রান সেখানে ক্লিক করুন

• তারপর রিসেন্ট লেখায় ক্লিক করুন এবং সমস্ত টেম্পোরারি ফাইল ডিলিট করে দিন।

• তারপর আবার রান লেখায় ক্লিক করে ( tree) লেখায় ক্লিক করে ওকে করে দিন। এতে করে আপনার কম্পিউটারের Ram পরিষ্কার থাকবে।

তো বন্ধুরা এই ছিল কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর সেরা কিছু উপায়। আশা করব উপরোক্ত উপায়গুলো প্রয়োগ করার মাধ্যমে আপনি আপনার কম্পিউটারের গতি আগের তুলনায় অনেক বাড়াতে পারবেন বা কম্পিউটার আগের থেকে অনেক ফাস্ট করতে পারবেন। তো এরকম নিত্যনতুন ট্রিক রিলেটেড আর্টিকেল পেতে নিয়মিত আমাদের সাইটটি ভিজিট করুন।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post