ফাইভার একাউন্ট ডিজে'বল বা সাস'পেন্ড হওয়ার কারণ গুলো জানুন 2022

ফাইভার একাউন্ট ডিজে'বল বা সাস'পেন্ড হওয়ার কারণ গুলো জানুন 2022

হ্যালো বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন?  আশা করি আপনারা সকলেই ভাল আছেন। আমরা যারা ফ্রিল্যান্সার রয়েছি, তাদের মধ্যে অনেকেই ফাইভারে কাজ করি। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ফাইভার হচ্ছে বেস্ট মার্কেটেপ্লেস। নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আমরা যখন ফাইভারে কাজ করি তখন অনেক ভুল-ত্রুটি করি। যার ফলে, আমাদের  ফাইভার একাউন্ট ডিজে'বল বা সাস'পেন্ড হয়ে যায়। একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার থেকে শুরু করে একজন টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সারদের ও মনে এই ভয়টি থাকে, যে কখন তাদের একাউন্টটি সাস'পেন্ড হয়ে যায়। ফাইভার একাউন্ট ডি'জেবল বা সাস'পেন্ড হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ফাইভারের নীতি লং'ঘন করা। তো আজকের আর্টিকেলে ফাইভার একাউন্ট ডিজে'বল বা সাস'পেন্ড হওয়ার বেশ কিছু কারণ নিয়ে আলোচনা করা হবে। 

ফাইভার একাউন্ট ডিজে'বল বা সাস'পেন্ড হওয়ার কারণ

বায়ারকে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া : ফাইভার একাউন্ট ডিজে'বল হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য করা হয় বায়ারকে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়াকে৷ আমরা অনেক সময়ই আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার লিংক অথবা পার্সোনাল কন্টাক্ট নাম্বার বায়ারদের দিয়ে থাকি। যা করা একদমই ঠিক নয়। এটি ফাইভারের নীতির বাইরে। ফাইভারের একটি বিশেষ টিম রয়েছে যারা আমাদের ব্যক্তিগত মেসেজগুলো সব সময় পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তাই আপনি কখনোই আপনার ব্যক্তিগত কোনো তথ্য বায়ারকে দিবেন না। তাহলে আপনার একাউন্টের ও কোনো সম'স্যা হবে না এবং একাওন্ট সুরক্ষিত থাকবে।

একাধিক একাউন্ট তৈরি করা :ফাইভার একাউন্ট ডিজে'বল হওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে একই ডিভাইসে একাধিক একাউন্ট তৈরি করা। ফাইভারের নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি কেবলমাত্র একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবে। কোনো ব্যাক্তি একাধিক একাউন্ট কখনোই তৈরি করতে পারবে না। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে অনেকেই এক একাউন্টে কাজ না পাওয়ায় একই ডিভাইসে বা একই আইপি দিয়ে একাধিক একাউন্ট তৈরি করে থাকে। যা ফাইভারের নীতির বিপরীত।আপনি কখনো একই ডিভাইসে বা একই আইপি দিয়ে একাধিক একাউন্ট তৈরি করবেন না। তবে আপনার পরিবারে যদি একাধিক ফ্রিল্যান্সার থাকে তাহলে অন্য ডিভাইসে আরেকটা আইপি দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারেন। অথবা একই অ্যাকাউন্টে আপনার ফ্যামিলির অন্য সদস্যরাও কাজ করতে পারেন। এতে করে আপনার অ্যাকাউন্টটি আরো তাড়াতাড়ি গ্রো হবে।

Fa'ke Review : Mutual Order এর মাধ্যমে অনেকেই ফেইক রিভিউ নিয়ে থাকেন। যার ফলে দুটি অ্যাকাউন্ট ই সাস'পেন্ড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার অনেক সময় দেখা যায় টাকা দিয়ে অনেকেই রিভিউ ক্রয় করে থাকেন  বায়ারের আকর্ষণ পাওয়ার জন্য৷ যা সম্পূর্ণ ইলি'গ্যাল। ফলে আপনার অ্যাকাউন্টটি সাস'পেন্ড বা ব্যান হতে পারে।

একাধিক পেওনার ব্যবহার :আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ ফাইভার থেকে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য পেমেন্ট মেথড হিসেবে পেওনার ব্যবহার করে থাকে। মনে করুন, আপনার পেওনার একাউন্ট নেই। এক্ষেত্রে আপনি ফাইভার থেকে পেমেন্ট উঠানোর জন্য আপনার বন্ধুর  পেওনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন এবং সেই পেওনার অ্যাকাউন্টটি আপনার বন্ধুর ফাইভারে ও যুক্ত করা আছে। এতে করে ফাইভার মনে করবে দুটি একাউন্ট ই একজনের বা দুটি একাউন্টের মালিক এক ব্যাক্তি। এর ফল সরূপ ফাইভার দুটি একাউন্ট ই ব্যান করে দিবে। তাই কখনোই একটি পেওনার একাউন্ট একাধিক ফাইভার একাউন্ট যুক্ত করবেন না বা অন্য কারো পেওনার একাউন্ট ও আপনার  ফাইভারে যুক্ত করবেন না।

অন্যের কন্টেন্ট ব্যাবহার: আমরা যারা নতুন ফ্রিল্যান্সার রয়েছি তারা ফাইভারের নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর একটি কমন ভুল করে  থাকি। তা হচ্ছে, আমাদের Gig Ranking এ প্রথমে আনার জন্য ফাইভারের প্রথম পেজে থাকা Ranking এ থাকা গিগটির সম্পূর্ণ কিছু কপি করে ফেলি। মানে, অন্যের গিগের টাইটেল, Description, Image সবকিছু কপি করে ফেলি। এতে করেও ফাইভার একাউন্ট ডিজে'বল বা সাসপে'ন্ড হতে হবার সম্ভাবনা থাকে।

5 স্টার রেটিং দেওয়ার জন্য অনুরোধ:আপনি কখনোই বায়ারকে ফাইভ স্টার রেটিং দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারবেন না। আবার  বায়ারের সাথে কখনোই খারা'প ব্যবহার বা তর্ক ও করতে পারবেন  না। মূল কথা হচ্ছে, বায়ার অসন্তুষ্ট হয় এমন কাজ করতে পারবেন না। এতে করে আপনার অ্যাকাউন্ট  সাস'পেন্ড বা ডিজেব'ল হবার সম্ভাবনা থাকবে।

খারা'প রেটিং :নিয়মিতই যদি আপনি বায়ারের কাছ থেকে খারা'প রেটিং পেতে থাকেন তাহলে একসময় আপনার একাউন্ট  ব্যান বা  সাসপেন্ড হবার সম্ভাবনা থাকবে।

 ফাকা অর্ডার ডেলিভারি : ফাঁকা অর্ডার ডেলিভারি দেবার কারণেও ফাইভার একাউন্ট সাসপে'ন্ড হতে পারে। ধরুন, বায়ার আপনাকে একটা কাজ  দিল। আপনি কাজটি সম্পন্ন করে, বায়ারকে কাজ জমা দেওয়ার সময় কাজের প্রমাণ হিসেবে একটি ডকুমেন্ট  সাবমিট করতে  হয়। হতে পারে সে টেক্সট বা যে কোনো প্রমাণ। তো  আপনি যদি ডকুমেন্ট সাবমিট না করেন আর সেটি যদি কখনো ফাইভারের নজরে পড়ে তাহলে আপনার একাউন্ট সাস'পেন্ড করে দিতে  পারে। তাই সব সময় বায়ারের কাজ জমা দেওয়ার সময় ডকুমেন্ট সাবমিট করুন।

স্পা'মিং করা থেকে বিরত থাকুন: বায়ারকে অতিরি'ক্ত মেসেজ দিয়ে বির'ক্ত করলে বা  বায়ারকে বারবার কাস্টম অফার পাঠালে সেটি  স্পামিং হিসেবে বিবেচনা করা  হয়। যার ফলে  আপনার একাউন্ট ব্যা'ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তাই কখনো স্প্যা'মিং করা যাবে না।

অপ্রয়োজনীয় গ্রিক অফার: ফাইভারের নীতির বাহিরে গিয়ে আপনি কোন গিগ পাবলিশ করলে আপনার অ্যাকাউন্টটি সাস'পে'ন্ড হবে।যেমন: প'র্নো'গ্রা'ফি, হ্যা'কিং' ইত্যাদি রিলেটেড কোনো গিগ পাবলিশ করলে আপনার একাউন্ট ব্যা'ন বা সা'স'পেন্ড হয়ে যাবে।

কিছু কমন প্রশ্ন : 

• আমি আমার ফাইভার একাউন্ট কম্পিউটারে চালাই। এখন কি সেই একাউন্টটি মোবাইল দিয়েও ব্যবহার করতে পারব? 

উত্তর: হ্যা, আপনি পারবেন।তবে  আপনার মোবাইল ডিভাইসটিতে অন্য কোন অ্যাকাউন্ট লগইন থাকতে পারবে  না।তবে কখনো যদি আপনি মনে করেন, মোবাইল ডিভাইসে থাকা একাউন্ট টি লগ আউট করে আরেকটা একাউন্ট আপনার মোবাইলে লগইন দিয়ে দেখবেন তাহলে সাথে সাথে দুইটা একাউন্টে সাস'পেন্ড হয়ে যাবে। তাই কখনো একটা ডিভাইসে একাধিক অ্যাকাউন্ট লগইন দেবেন না বা এমন কোন ডিভাইসে ও আপনার অ্যাকাউন্ট লগইন দেবেন না যে, সেই ডিভাইসে অলরেডি আরেকটা একাউন্ট রয়েছে।

আইপি নিয়ে আলোচনা : অনেক সময় আইপির কারণেও ফাইভার একাউন্ট সাস'পেন্ড হয়ে যায়। তো আপনি যদি মোবাইল ডাটা ব্যবহার করেন তাহলে সেই কোম্পানি থেকে একটা আইপি পান। তবে আপনি যদি ওয়াইফাই ব্যবহার করেন তাহলে তাদের বলুন একটি রিয়েল আইপি দেওয়ার  জন্য। রিয়েল আইপি জন্য হয়তো তাদের আলাদা খরচ দিতে হবে। তবে রিয়েল আইপি ব্যবহার করাই ভালো। মূলত তারা আপনাদের শেয়ার আইপি দিয়ে থাকে। যা অনেক মানুষ ই ব্যবহার করছে। তবে শেয়ার আইপি হলেও সমস্যা নেই। অনেক ফাইভার একাউন্টে ব্যবহার করতে পারবেন।কিন্তু শর্ত  হচ্ছে সবাই আলাদা আলাদা নিশ বা বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। একই নিশ বা বিষয় নিয়ে কাজ করলে একাউন্ট সাস'পেন্ড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তো এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন।

তো বন্ধুরা এই ছিল ফাইবার একাউন্ট ডিজেবল বা ব্যান হওয়ার মূল কারণগুলো।তো আপনি উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করলে আশা করি আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যা'ন বা সাস'পেন্ড হবে না। তো এরকম নিত্যনতুন প্রয়োজনীয় টিপস পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন। ধন্যবাদ সকলকে।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post