ব্লগিং কোথা থেকে শুরু করব? - বিস্তারিত জানুন। Btc Bangla Pro

হ্যালো বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সকলেই ভাল আছেন। তো আপনারা যারা চাচ্ছেন ব্লগিংয়ে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে তারা সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন। কারণ আজকের আর্টিকেলে আপনারা জানতে পারবেন, ব্লগিং কোথা থেকে শুরু করবেন, কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো, ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায় , বিস্তারিত সকল তথ্য।

কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো

ব্লগিং কোথা থেকে শুরু করব

আপনি যদি ব্লগিং সেক্টরে আগ্রহী হয়ে থাকেন এবং ব্লগিংয়ের যাত্রা শুরু করতে যা যা শিখা বা জানা প্রয়োজন এবং যে নিয়ম অনুসরণ ব্লগিং শুরু করলে সফলতার মুখ দেখতে পারবেন সেই সকল বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে তুলে ধরব।

Table of content

• ভাষা বাছাই
• নিস বা ক্যাটাগরি সিলেক্ট
• ডোমেইন হোস্টিং কেনা
• সাইট ডিজাইন
• কনটেন্ট রাইটিং
• ব্লগিং থেকে টাকা হাতে পাওয়া পর্যন্ত


ভাষা বাছাই: ব্লগিং শুরু করার পূর্বে সর্বপ্রথম আপনি চিন্তা করুন কোন ভাষায় আপনি আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখবেন। আপনার জন্য প্রথম অবস্থায় বাংলা বা ইংলিশ কোন ভাষায় আর্টিকেল লিখলে ভালো হবে তার কিছু ধারনা:

ইংরেজি কনটেন্ট :

• আপনি যদি ইংরেজিতে আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখেন তাহলে আপনার আর্টিকেল পুরো বিশ্বের মানুষ সহজেই পড়তে পারবে।

• উন্নত দেশগুলো থেকে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর আসার কারণে বাংলা কন্টেনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি ইনকাম হবে।

• আপনি যে বিষয়ে আর্টিকেল লিখবেন সেই বিষয়ে অলরেডি গুগলে লাখ লাখ আর্টিকেল রয়েছে। যার ফলে সঠিক কিওয়ার্ড রিসার্চ না করে কন্টেন বা আর্টিকেল লিখলে কখনো আপনার আর্টিকেল গুগলের Rank করবে না বা প্রথম পেজে আসবে না।

বাংলা কন্টাক্ট:

• ইংরেজি আর্টিকেলের তুলনায় সহজেই আপনার বাংলা আর্টিকেল গুগলে Rank করাতে পারবেন।

• বাংলাদেশ বা দেশের বাইরে যারা বাঙালি রয়েছে তারাই শুধু আপনার কনটেন্ট দেখবে। মানে যারা আপনার ভাষা বুঝে তারাই শুধু আপনার কনটেন্ট দেখবে।

• বাংলায় আর্টিকেল লিখলে ইংরেজি আর্টিকেলের তুলনায় অনেক কম হবে।

তো প্রথম অবস্থায় কোন ভাষায় আর্টিকেল লিখব?

মূল কথা হচ্ছে, আপনি ব্লগিং সেক্টরে আসছেন টাকা আয় করার জন্য। আর ব্লগিং সেক্টরে টাকা আয় হয় সবচেয়ে বেশি ইংরেজি কনটেন্ট এর মাধ্যমে। যার ফলে আপনি যদি ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী হয়ে থাকেন তাহলে অবস্যই ইংরেজিতে আপনার কনটেন্ট বা আর্টিকেল লিখবেন। আর যদি আপনি ইংরেজি বেশি না পারেন তাহলে বাংলায় ও আর্টিকেল লিখতে পারে। বাংলাতে আর্টিকেল লিখে ও ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করা যায়৷ আমি মনে করি ভাষা সিলেক্ট হচ্ছে ব্লগিং সেক্টরে প্রবেশের প্রথম ধাপ।

নিস বা ক্যাটাগরি সিলেক্ট:মনে করি, আপনি ভাষা সিলেক্ট করে ফেলছেন। এখন আমরা চলে আসছি ব্লগিং সেক্টরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপে। ব্লগিং থেকে আয় করার চিন্তাভাবনা মাথায় আসলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন আপনার ভালো একটি ব্লগিং ক্যাটাগরি বাছাই করা। 

নিচে কিছু ব্লগিং ক্যাটাগরি তালিকা দেওয়া হলো:

• টেকনোলজি
• হেলথ টিপস
• গেমিং
• শিক্ষা
• ফুড রিভিউ
• মোবাইল রিভিউ
• কম্পিউটার রিভিউ
• গ্যাজেট রিভিউ
• ভ্রমণ টিপস
• অনলাইন ইনকাম বা ফ্রিল্যান্সিং
• নিউজ
• চাকরির খবর
• ইত্যাদি

উদাহরণস্বরূপ উপরে কিছু ব্লগিং ক্যাটাগরির আইডিয়া দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও অনেক রকমের ব্লগিং ক্যাটাগরি রয়েছে৷ আপনি আপনার পছন্দমত একটি ব্লগিং ক্যাটাগরি বাছাই করে নিতে পারেন। তবে চাইলেও আপনি মাল্টি নিশ নিয়েও কাজ করতে পারেন। মাল্টি নিশ বলতে বুঝানো হয়েছে একই সাইটে বিভিন্ন ক্যাটাগরির কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করা। কিন্তু বর্তমানে ব্লগিং সেক্টর অনেক কম্পিটিশন বেড়ে গেছে। যার ফলে আপনি মাল্টি নিশ নিয়ে কাজ করলে আপনার সাইট Rank করাতে অনেক সময় লাগবে। তাই আমার সাজেশন হলো আপনি যেকোনো একটি নিশ বা ক্যাটাগরি নিয়ে কাজ করুন।

আপনি যে বিষয়ে লিখতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী সেরকম একটি বিষয় বা নিশ সিলেক্ট করুন। যেমন: আপনি যদি ট্টেকনোলজি বিষয়ে আগ্রহী তাহলে এই বিষয়টি বাছাই করুন। কারণ আপনাকে নিয়মিতই টেকনোলজি রিলেটেড আর্টিকেল আপনার সাইটে লিখতে হবে। মূল কথা হচ্ছে, পছন্দের একটি বিষয় বা নিশ বাছাই করুন যাতে এই বিষয়ে লিখতে আপনি কখনোই অস্বস্তি বোধ না করেন।


ডোমেইন হোস্টিং কেনা:নিস বা ক্যাটাগরি বাছাই করা হয়ে গেলে আপনার প্রয়োজন একটি ডোমেইন হোস্টিং কেনা।

Best Hosting Company in Bangladesh


ডোমেইন কেনা : আপনার ক্যাটাগরির সাথে মিল রেখে একটি ডোমেইন নাম বাছাই করুন। তারপর ডোমেইন প্রভাইডার সাইটে গিয়ে চ্যাক করুন সেই ডোমেইন নেমটি available রয়েছে কিনা। যদি আপনার বাছাই করা ডোমেইন নেমটি অলরেডি কেউ কিনে থাকে তাহলে অন্য একটি ডোমেইন নাম বাছাই করুন এবং সেটি কিনুন।

হোস্টিং কেনা : ডোমেইন কেনা হয়ে গেলে আপনি হোস্টিং ক্রয় করুন। তবে আপনি চাইলে প্রথম অবস্থায় হোস্টিং ক্রয় না করে ব্লগারের মাধ্যমেও ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। আমার সাজেশন থাকবে প্রথম অবস্থায় আপনি শুধু ডোমেইন ক্রয় করে ব্লগারের মাধ্যমে ওয়েবসাইট তৈরি করুন। পরবর্তীতে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস শিফট হতে পারেন। নতুন অবস্থায় ব্লগারে ওয়েবসাইট তৈরি করার সুবিধা হচ্ছে আপনাকে কোন হোস্টিং ক্রয় করতে হবে না শুধু একটি ডোমেইন নেম ক্রয় করেই আপনি ব্লগারে ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন। পরবর্তীতে যখন আপনার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম আসবে তখন সেই ইনকামের টাকা দিয়েই আপনি ওয়ার্ডপ্রেসে প্রফেশনাল ওয়েবসাইট স্বিফট বা ট্রান্সফার করতে পারবেন।

সাইট ডিজাইন : ডোমেইন কেনা হয়ে গেলে সেটা আপনার ব্লগারে যুক্ত করুন। তারপর প্রফেশনাল থিম দিয়ে আপনার সাইটটি ডিজাইন করুন। আপনার সাইটটি এমনভাবে ডিজাইন করবেন যাতে সাইটটি ইউজার ফ্রেন্ডলি হয়। আপনার সাইটে বিভিন্ন পেজ যেমন : About us , Contact us, Privacy Policy যুক্ত করুন। মূল কথা হচ্ছে পরিপূর্ণ একটি ওয়েবসাইট রেডি করুন। ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট তৈরি নিয়ে অসংখ্য টিউটোরিয়াল ইউটিউবে রয়েছে। আপনি চাইলে সেখান থেকে দেখে শিখে নিতে পারেন। সাইট ডিজাইন করার পূর্বে আপনি কিছু আর্টিকেল লিখে রাখুন। কারণ আপনার সাইটটি ডিজাইন করতে কিছু আর্টিকেল এর প্রয়োজন হবে।

সাইট ডিজাইন কমপ্লিট হয়ে গেলে আপনার সাইট এর বেসিক কিছু এসইও করুন এবং সাইটি গুগল সার্চ কনসোলে যুক্ত করুন। গুগল সার্চ করলে আপনার সাইট যুক্ত না করলে কখনোই আপনার সাইট গুগোল দেখাবেনা। Search Console এ আপনার সাইট যুক্ত করার পর Search Console এর কিছু বেসিক কাজ করুন। যেমন: সাইটম্যাপ যুক্ত করা। সাইটে কোনো ইরর আছে কিনা তা চ্যাক করুন।


কনটেন্ট রাইটিং : নিয়মিত আপনার সাইটে আর্টিকেল পাবলিশ করুন। আর্টিকেল লেখার সময় কিছু রুলস অনুসরণ করুন।যেমন:

• কিওয়ার্ড রিসার্চ করে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখুন।
• সব সময় 1000 + word এর আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করুন।
• কখনোই কারো কাছ থেকে আর্টিকেল কপি করবেন না। সব সময় নিজের ইউনিক আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করুন।
• পরিপূর্ণ আর্টিকেল রাইটিং বিষয়ে জানতে আপনি ইউটিউব বা গুগলের সাহায্য নিতে পারেন।


ব্লগিং থেকে টাকা হাতে পাওয়া পর্যন্ত:যখনই আপনার সাইটে 1000 শব্দের 25 - ৩০ টির বেশি আর্টিকেল পাবলিশ করবেন এবং সাইটে কিছু অর্গানিক ভিজিটর আসা শুরু করবে তখনই গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারেন। যদি সাইটে গুগল এডসেন্স পেয়ে যান তাহলেই আপনার ইনকাম হয় শুরু হয়ে যাবে। আর যদি গুগল এডসেন্স আপনার সাইটটি রিজেক্ট করে দেই তাহলে রিজেক্ট করার কারন এবং সমাধান খুঁজে বের করুন।তারপর পুনরায় গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করুন৷ তারপর যখন আপনার সাইটে এডসেন্স যাবেন তখন আরো বেশি ভালো মানের কনটেন পাবলিশ করুন যাতে আপনার কনটেন্ট বা আর্টিকেলগুলো গুগলে Rank করে এবং সেখান থেকে ভিজিটর আপনার সাইটে আসে। কারণ যত ভিজিটর আপনার সাইটে আসবে তত আপনার ইনকাম হবে।

তারপর যখন আপনার গুগল এডসেন্স এর মেইন ব্যালেন্সে 10 ডলার পূর্ণ হবে তখন গুগল এডসেন্স কর্তৃপক্ষ আপনাকে একটি পিন কোড পাঠাবে। আপনি এডসেন্স একাউন্ট তৈরি করার সময় যে অ্যাড্রেস ব্যবহার করেছেন ঠিক সেই এড্রেসে আপনার পিন কোডটি পাঠাবে। সাধারণত বাংলাদেশ গুগল এডসেন্স এর পিন কোড আসতে 15 থেকে 20 দিন সময় লাগে। তবে কিছু এলাকায় সময় কম লাগে আবার অনেক এলাকায় সময় আরো বেশি লাগে। তো আপনার পিন কোড টি আপনার পোস্ট অফিসে আসার পর আপনি পিন কোড সেখান থেকে সংগ্রহ করে আপনি আপনার গুগল এডসেন্স এর পিন ভেরিফাই করে নিবেন।

গুগল এডসেন্স এর পিন ভেরিফাই করার পর আপনার এডসেন্সে ব্যাংক একাউন্ট যোগ করার একটি অপশন আসবে। ( মেইন ব্যালেন্সে ১০ ডলার হলেই ব্যাংক একাওন্ট যুক্ত করার অপশন এসে পরে)। সেখানে আপনি আপনার ব্যাংক একাউন্টে যুক্ত করে নেবেন। আপনি যে কোন ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে আপনার গুগল এডসেন্স এর পেমেন্ট নিতে পারবেন।

তারপরে যখন আপনার এডসেন্স একাউন্টের মেইন ব্যালেন্সে 100 ডলার হয়ে যাবে তার পরের মাসের 21 থেকে 26 তারিখের ভেতর পেমেন্ট আপনার ব্যাংকে চলে আসবে।

ব্লগিং করে আয় আর কারো কিছু উপায়

স্পনসর : আপনার সাইটে ভিজিটর বৃদ্ধি পেলে আপনি আপনার সাইটের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে স্পন্সর পাবেন। সেখান থেকেও অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং : আপনি আপনার সাইটের মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন। তবে বাংলা কনটেন্ট নিয়ে যদি আপনি কাজ করেন তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনারাই বেশি হবে না। কিন্তু আপনার কনটেন্ট যদি ইংরেজি হয় তাহলে আপনি আপনার সাইট রিলেটেড এফিলিয়েট প্রোডাক্ট আপনার ওয়েবসাইটে প্রমোট করার মাধ্যমে ভালো পরিমাণে করতে পারবেন।

তো বন্ধুরা এই ছিল ব্লগিং শুরু করার বেসিক আলোচনা। মূল কথা হচ্ছে ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জন করতে হলে অবশ্যই আপনাকে কনটেন্ট এর উপর ফোকাস করতে হবে। কারণ বর্তমানে আপনি আজেবাজে কনটেন্ট লিখে কখনোই আপনার সফলতার মুখ দেখতে পারবেন না। বর্তমান সময়ের ব্লগিং সেক্টরে সফলতার মুখ দেখতে হলে অবশ্যই আপনাকে কোয়ালিটিফুল কন্টেন লিখতে হবে। কোয়ালিটিফুল কনটেন্ট না লিখলে আপনি আপনার সাইটে ভিজিটর পাবেন না এবং আপনার ইনকাম হবে না। ত কনটেন্ট এর উপর ফোকাস দিন ইনকাম এমনিতেই হবে। ত ব্লগিং বিষয়ে আরও কিছু জানতে চাইলে কমেন্টে জানাতে পারেন।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post